প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে মাসিক সাহিত্য সেমিনার অনুষ্ঠিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে মাসিক সাহিত্য সেমিনার অনুষ্ঠিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে আজ ২৮ অক্টোবর বিকেলে জিইসি ক্যাম্পাসে নিয়মিত মাসিক সাহিত্য সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে দুটি সময়োপযোগী গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধ দুটির একটি ছিল প্রভাষক জাগরণ দে মিল্টনের—‘চ্যালেঞ্জেস অব প্রনান্সিয়েশন ফেসড বাই ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ইন বাংলাদেশ: এ কেস স্টাডি’। অন্য প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম ইফতেখারুল আজম—‘পলিটিক্যাল ইকোলজি অ্যান্ড কালচারাল রেজিলিয়েন্স অব দ্য সাবঅল্টার্নস: দ্য ইনট্রিকেসি বিটুইন হিউম্যান অ্যান্ড নেচার ইন ঘোষ’স দ্য হাংরি টাইড’।
গবেষক এ এস এম ইফতেখারুল আজম তাঁর আলোচনায় সুন্দরবনের পটভূমিতে রচিত অমিতাভ ঘোষের উপন্যাসের আলোকে পরিবেশ ও মানুষের টানাপোড়েন তুলে ধরেন। তিনি দেখান, কীভাবে পরিবেশ রক্ষার নামে দরিদ্র উদ্বাস্তুদের জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং প্রকৃতি ও রাজনীতির চাপে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় ঐতিহ্য, পৌরাণিক বিশ্বাস ও প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্কের জোরে তারা টিকে থাকার ও প্রতিরোধের শক্তি খুঁজে পায়।
অন্যদিকে গবেষক জাগরণ দে মিল্টনের গবেষণায় উঠে আসে পার্বত্য অঞ্চলের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের ইংরেজি উচ্চারণের নানা সীমাবদ্ধতা। দেখা যায়, নিজস্ব ভাষায় কিছু ধ্বনি না থাকায়, দীর্ঘ ও হ্রস্ব স্বরের তফাত বুঝতে না পারায় এবং শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত চর্চার অভাবে তারা উচ্চারণে ভুল করেন। এ সমস্যা কাটাতে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উচ্চারণ প্রশিক্ষণ ও মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজি শেখানোর ওপর তাগিদ দেওয়া হয়।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম গবেষণার গভীরে প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল ভাষা শেখা বা সাহিত্য পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর পেছনের রাজনীতি ও মানুষের জীবনসংগ্রামকে গভীরভাবে বুঝতে হবে। সুন্দরবনের সংকট যেমন মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককে স্পষ্ট করে, তেমনি পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চারণের সমস্যা বুঝতে হলে তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির গভীরে যেতে হবে। এ সময় আধুনিক গবেষণা রীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের গবেষণা কেবল বইপুস্তকের তথ্য উদ্ধৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এতে আন্তঃবিভাগীয় দৃষ্টিভঙ্গি, প্রত্যক্ষ মাঠপর্যায়ের উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটকে যুক্ত করতে হবে। একটি মানসম্মত গবেষণাকে অবশ্যই তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি সমাজের বাস্তব সমস্যা সমাধানের পথ দেখাতে হবে এবং নিজস্ব চিন্তা ও নৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করতে হবে।
আলোচক হিসেবে আরও মূল্যবান মতামত দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু দাশ এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম।
সভাপতির বক্তব্যে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ জসীম উদ্দীন বলেন, মানসম্মত গবেষণার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও সহযোগিতা বাড়ানো খুবই প্রয়োজন। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভাগে মাসিক সাহিত্য সেমিনারের এই দীর্ঘ বুদ্ধিবৃত্তিক ধারাবাহিকতা চালু রাখার জন্য অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলমের অনন্য অবদানের প্রশংসা করেন।
৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. ইফতেখার আলম অন্তরের সঞ্চালনায় সেমিনারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Related News
মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ মিনহাজ হোসেইনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে পিইউডিএসের পাবলিক স্পিকিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে মাসিক সাহিত্য সেমিনার অনুষ্ঠিত
Wednesday, 28 October, 2026
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে মাসিক সাহিত্য সেমিনার অনুষ্ঠিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে আজ ২৮ অক্টোবর বিকেলে জিইসি ক্যাম্পাসে নিয়মিত মাসিক সাহিত্য সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে দুটি সময়োপযোগী গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধ দুটির একটি ছিল প্রভাষক জাগরণ দে মিল্টনের—‘চ্যালেঞ্জেস অব প্রনান্সিয়েশন ফেসড বাই ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ইন বাংলাদেশ: এ কেস স্টাডি’। অন্য প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম ইফতেখারুল আজম—‘পলিটিক্যাল ইকোলজি অ্যান্ড কালচারাল রেজিলিয়েন্স অব দ্য সাবঅল্টার্নস: দ্য ইনট্রিকেসি বিটুইন হিউম্যান অ্যান্ড নেচার ইন ঘোষ’স দ্য হাংরি টাইড’।
গবেষক এ এস এম ইফতেখারুল আজম তাঁর আলোচনায় সুন্দরবনের পটভূমিতে রচিত অমিতাভ ঘোষের উপন্যাসের আলোকে পরিবেশ ও মানুষের টানাপোড়েন তুলে ধরেন। তিনি দেখান, কীভাবে পরিবেশ রক্ষার নামে দরিদ্র উদ্বাস্তুদের জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং প্রকৃতি ও রাজনীতির চাপে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় ঐতিহ্য, পৌরাণিক বিশ্বাস ও প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্কের জোরে তারা টিকে থাকার ও প্রতিরোধের শক্তি খুঁজে পায়।
অন্যদিকে গবেষক জাগরণ দে মিল্টনের গবেষণায় উঠে আসে পার্বত্য অঞ্চলের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের ইংরেজি উচ্চারণের নানা সীমাবদ্ধতা। দেখা যায়, নিজস্ব ভাষায় কিছু ধ্বনি না থাকায়, দীর্ঘ ও হ্রস্ব স্বরের তফাত বুঝতে না পারায় এবং শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত চর্চার অভাবে তারা উচ্চারণে ভুল করেন। এ সমস্যা কাটাতে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উচ্চারণ প্রশিক্ষণ ও মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজি শেখানোর ওপর তাগিদ দেওয়া হয়।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম গবেষণার গভীরে প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল ভাষা শেখা বা সাহিত্য পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর পেছনের রাজনীতি ও মানুষের জীবনসংগ্রামকে গভীরভাবে বুঝতে হবে। সুন্দরবনের সংকট যেমন মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককে স্পষ্ট করে, তেমনি পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চারণের সমস্যা বুঝতে হলে তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির গভীরে যেতে হবে। এ সময় আধুনিক গবেষণা রীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের গবেষণা কেবল বইপুস্তকের তথ্য উদ্ধৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এতে আন্তঃবিভাগীয় দৃষ্টিভঙ্গি, প্রত্যক্ষ মাঠপর্যায়ের উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটকে যুক্ত করতে হবে। একটি মানসম্মত গবেষণাকে অবশ্যই তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি সমাজের বাস্তব সমস্যা সমাধানের পথ দেখাতে হবে এবং নিজস্ব চিন্তা ও নৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করতে হবে।
আলোচক হিসেবে আরও মূল্যবান মতামত দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু দাশ এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম।
সভাপতির বক্তব্যে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ জসীম উদ্দীন বলেন, মানসম্মত গবেষণার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও সহযোগিতা বাড়ানো খুবই প্রয়োজন। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিভাগে মাসিক সাহিত্য সেমিনারের এই দীর্ঘ বুদ্ধিবৃত্তিক ধারাবাহিকতা চালু রাখার জন্য অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলমের অনন্য অবদানের প্রশংসা করেন।
৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. ইফতেখার আলম অন্তরের সঞ্চালনায় সেমিনারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।